শুক্রবার , নভেম্বর ২৬ ২০২১
Home / বাংলাদেশ / ময়মনসিংহের ১০ জন গুণী ব্যাক্তি

ময়মনসিংহের ১০ জন গুণী ব্যাক্তি

প্রতিদিনের তথ্য.কম ডেস্ক: ময়মনসিংহ ।। এই নামটার পিছনে লুকিয়ে আছে অনেক গুণী মানুষের নাম । যুগে যুগে এ ময়মনসিংহে অনেক গুনী মানুষ জন্মেছেন যাদের কারনে বাংলাদেশ তথা পৃথিবীর বুকে ময়মনসিংহ নামটা আরো বেশী করে ফুটে উঠেছে । এমনি ১০ জন গুণী মানুষের সাথে আজকে আমরা পরিচিত হবো যারা তাদের গুন, মেধা দ্বারা ময়মনসিংহকে উজ্জ্বল করেছেন ।

১।আনন্দ মোহন বসুঃ জন্ম ২৩শে সেপ্টেম্বর, ১৮৪৭এবং মৃত্যু ২০শে আগস্ট, ১৯০৬ । তিনি ছিলেন বাঙালি রাজনীতিবিদ এবং সমাজসেবক। ময়মনসিংহ জেলার জয়সিদ্ধি গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। ময়মনসিংহ জজ আদালতের পেশকার পদ্মলোচন বসু ছিলেন তার পিতা। বিজ্ঞানী জগদীশচন্দ্র বসুর বোন স্বর্ণপ্রভা বসু তাঁর স্ত্রী। আনন্দমোহন বসু সস্ত্রীক ব্রাহ্মধর্মে দীক্ষিত হয়েছিলেন।

আনন্দমোহন বসু বৃহত্তর ময়মনসিংহের কিশোরগঞ্জ জেলার জয়সিদ্ধি গ্রামের এক ভূস্বামী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার প্রাথমিক পড়াশোনা শুরু হয় ময়মনসিংহেই। ময়মনসিংহ জিলা স্কুল থেকে মেধা তালিকায় ৯ম স্থান অধিকার করে এনট্রান্স পরীক্ষা পাশ করেন। এফএ এবং বিএ পরীক্ষা দেন প্রেসিডেন্সী কলেজ থেকে। উভয় পরীক্ষায়ই শীর্ষস্থান অধিকার করেন। ১৮৭০ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক প্রদত্ত প্রেমচাঁদ রায়চাঁদ বৃত্তি লাভ করেন। বৃত্তি নিয়ে উচ্চ শিক্ষা অর্জনের লক্ষ্যে ইংল্যান্ড যান। সেখানে কেমব্রিজের ক্রাইস্ট কলেজ থেকে উচ্চতর গণিত বিষয়ে পড়াশোনা করেন। অনার্সসহ ডিগ্রী পরীক্ষা তথা ট্রাইপস পরীক্ষা প্রথম শ্রেণী লাভ করে প্রথম ভারতীয় র‌্যাংলার হবার সৌভাগ্য অর্জন করেন। ১৮৭৪ সাল থেকে তিনি আইন ব্যবসা শুরু করেছিলেন।

তার উল্লেখযোগ্য অবদানগুলো হলো_

ময়মনসিংহ শহরে ময়মনসিংহ ইনস্টিটিউশন নামে বিদ্যালয় স্থাপন করেন (১৮৮৩), বর্তমানে আনন্দমোহন কলেজ (বাংলাদেশ)।
শিবনাথ শাস্ত্রীর সহযোগিতায় কলকাতায় সিটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন (১৮৭৯)। এটি এখন আনন্দমোহন কলেজ (কলকাতা)।
কলকাতায় বঙ্গ মহিলা বিদ্যালয় স্থাপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন (১৮৭৬)।

২।শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলামঃ বিখ্যাত এই ব্যক্তির জন্ম ময়মনসিংহ জেলার (বর্তমান
কিশোরগঞ্জ জেলা)সদর উপজেলার যশোদল ইউনিয়নে বীরদামপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯২৫ সালে এবং মৃত্যু ৩ নভেম্বর ১৯৭৫ সালে। তিনি পেশায় ছিলেন শিক্ষাবিদ-আইনজীবী ও রাজনীতিক। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের পুরোধা পুরুষ। বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে ১৯৭১-এ তিনি নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশের বিপ্লবী সরকারকে। তিনি ছিলেন বাংলাদেশ সরকারের প্রথম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে সকল প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর হিসেবে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। ১৯৭৫-এ বঙ্গবন্ধু সপরিবারে শহীদ হবার পর ৩রা নভেম্বর কারা অভ্যন্তরে ষড়যন্ত্রকারীদের হাতে নির্মমভাবে নিহত চার জাতীয় নেতার একজন সৈয়দ নজরুল ইসলাম।

৩।আবদুল জব্বারঃ জন্ম ১৯১৯ এবং মৃত্যু ২১শে ফেব্রুয়ারি ১৯৫২। তিনি হলেন মহান ভাষা আন্দোলনের অন্যতম বীর শহীদ। তার শহীদস্মৃতি পরবর্তীকালে বাঙালি জাতিকে জাতীয় চেতনায় উজ্জ্বীবিত ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করে; এ চেতনার বলেই ১৯৭১ সালের সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জিত হয়।

জব্বারের জন্ম ১৩২৬ বাঙ্গাব্দের ২৬ আশ্বিন তারিখে (১৯১৯ খ্রিস্টাব্দ) ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও উপজেলার পাঁচুয়া গ্রামে। স্থানীয় ধোপাঘাট কৃষ্টবাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কিছুকাল অধ্যয়নের পরে দারিদ্র্যের কারণে লেখাপড়া ত্যাগ করে পিতাকে কৃষিকাজে সাহায্য করেন আবদুল জব্বার। পনের বছর বয়সে নিজ খেয়ালে সবার অজান্তে গৃহত্যাগ করেন। নারায়ণগঞ্জে এসে সেখানে জাহাজ ঘাটে এক ইংরেজ সাহেবের সান্নিধ্যে আসেন। সাহেব তাঁকে একটি চাকরি দিয়ে বার্মায় (বর্তমানঃ মায়ানমার) পাঠান। সেখানে দশ-বারো বছর অবস্থান করেন।

আবদুল জব্বারের পুত্র জন্ম হওয়ার কিছুকাল পরে তার শাশুড়ি ক্যান্সারে আক্রান্ত হন। শাশুড়িকে নিয়ে ১৯৫২ সালের ২০শে ফেব্রুয়ারী ঢাকায় আসেন। হাসপাতালে রোগী ভর্তি করে আবদুল জব্বার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ছাত্রদের আবাসস্থল (ছাত্র ব্যারাক) গফরগাঁও নিবাসী হুরমত আলীর রুমে (২০/৮) উঠেন। ২১ ফেব্রুয়ারি আন্দোলনরত ছাত্রদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষ শুরু হলে, কি হয়েছে দেখবার জন্য তিনি রুম থেকে বের হয়ে আসেন। তখনই পুলিশ গুলি শুরু করে এবং জব্বার আহত হন। ছাত্ররা তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা জব্বারকে মৃত ঘোষণা করেন। তাকে যারা হাসপাতালে নিয়ে যান, তাদের মধ্যে ছিলেন ২০/৯ নম্বর কক্ষের সিরাজুল হক।

মহান ভাষা আন্দোলনে অনবদ্য ভূমিকা রাখায় আবদুল জব্বারকে বাংলাদেশ সরকার ২০০০ সালে একুশে পদক (মরণোত্তর) প্রদান করেন।

৪।শিল্পাচার্যজয়নুল আবেদিনঃ জন্ম ২৯ ডিসেম্বর ১৯১৪, মৃত্যু ২৮ মে ১৯৭৬। ১৯৪৩ সালে অবিভক্ত বাংলার মন্বন্তরের আঁকা তার স্কেচসমূহ বিশ্বব্যাপী আলোড়ন সৃস্টি করে। বাংলাদেশে তিনি আধুনিক চিত্রকলার পথিকৃৎ। চারুকলা ইনস্টিটিউট, সোনারগাঁয়ে বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন এবং ময়মনসিংহ শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন সংগ্রহশালার প্রতিষ্ঠাতা। আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন চিত্রকর। সর্বভারতীয় চারুকলা প্রদর্শনীতে স্বর্ণপদক (১৯৩৮), রকফেলার ফাউন্ডেশন ফেলোশীপ (১৯৫৬-৫৭), পাকিস্তানের সর্বোচ্চ পুরস্কার প্রাইড অফ পারফরমেন্স (১৯৫৯), মরণোত্তর স্বাধীনতা দিবস পদক, দিল্লী বিশ্ববিদ্যালয় হতে সম্মান্সূচক ডক্টরেটে ভূষিত হন।

৫। ডক্টর জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতাঃ জন্ম ১০ জুলাই ১৯২০, মৃত্যু ২৭মার্চ ১৯৭১। জন্মস্থান ময়মনসিংহ সদর, ময়মনসিংহ। শিক্ষাবিদ ও বুদ্ধিজীবি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যুক্তিবাদী ও প্রগতিশীল শিক্ষক ছিলেন। ১৯৭১ সালে র ২৫ মার্চ কালো রাত্রিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আক্রান্ত হলে জগন্নাথ হলের আবাসিক ভবনে থাকাকালে গুলিবিদ্ধ হন এবং ২৭ মার্চ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।

৬। নলিনীরঞ্জন সরকারঃজন্ম ১৮৮২, মৃত্যু ২৫ জানুয়ারি ১৯৫৩। পিতা- চন্দ্রনাথ সরকার। ১৯৫৩-এ যুক্তবঙ্গে ফজলুল হক মন্ত্রী সভায় অর্থমন্ত্রী, ১৯৪১-এ শিক্ষা-স্বাস্থ্য ও ভূমিমন্ত্রী এবং ১৯৪৩-এ বাণিজ্য ও খাদ্য মন্ত্রী। ১৯৪৮-এ পশ্চিমবঙ্গের অর্থমন্ত্রী এবং ১৯৪৯-এ অস্থায়ী মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। ব্রহ্মপুত্র তীরে তার বাসভবনেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে জয়নুল আবেদীন সংগ্রহশালা।

৭। রফিক উদ্দিন ভূঞাঃজন্ম ২৫ জানুয়ারি ১৯২৬, মৃত্যু ১৯৯৪। পিতা- ওয়াফিজ ভূঞা। জন্মস্থান মেরেঙ্গা, নান্দাইল, ময়মনসিংহ। রাজনীতিক-সংগঠক ও সমাজসেবী। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ প্রতিটি আন্দোলনে ময়মনসিংহে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি ছিলেন ময়মনসিংহের অবিসংবাদিত নেতা। একাধিক বার জাতীয় সংসদ সদস্য।

৮। মনোরঞ্জন ধরঃজন্ম ২১ ফেব্রুয়ারি ১৯০৪, মৃত্যু ১৯৮৬। পিতা- জগৎচন্দ্র ধর। আইনজীবী ও রাজনীতিক। কংগ্রেসের রাজনীতি করতেন। পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধু মন্ত্রীসভার আইনমন্ত্রী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

৯। মোস্তফা এম এ মতিনঃজন্ম ১ আগস্ট ১৯৩৪, মৃত্যু ২০০৪। জন্মস্থান সাতেঙ্গা, ভালুকা, ময়মনসিংহ। আইনজীবী-রাজনীতিক ও সমাজসেবী। ভাষা আন্দোলনের সক্রিয় কর্মী। প্রাদেশিক পরিষদ ও জাতীয় পরিষদ সদস্য।

১০। শামসুল হুদা পাঁচবাগীঃজন্ম ১৮৬৯, মৃত্যু ৮ আক্টোবর ১৯৮৮। জন্মস্থান পাচবাগ, গফরগাঁও, ময়মনসিংহ। পিতা- মওলানা রিয়াজ উদ্দিন আহম্মদ। ধর্মীয় আলেম, পীর, রাজনীতিক ও সমাজসেবী। বিজ্ঞানমনষ্ক আলেম হিসেবে তিনি ছিলেন সর্বজন শ্রদ্ধেয়।
সূত্র: সংগ্রহিত,ময়মনসিংহ হেল্পলাইন।

About Pratidiner Tottho

Check Also

লাশের পাশে বসা শিশু মরিয়মকে নওগাঁ পুলিশের অনুদান

প্রতিদিনের তথ্য.কম ডেস্ক: রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত বাবার লাশ পাহারা দেওয়ার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
সর্বশেষ
গৌরীপুরে লকডাউন অমান্য করায় ১৬ মামলায় ১৬৯০০টাকা জরিমানা রূপগঞ্জে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার রহস্য উদঘাটনে বিরোধী দলীয় নেতার আহবান।। গৌরীপুরে লকডাউনের আটদিনে ২০৪টি মামলায়২লাখ ২১ হাজার ৬শ টাকা জরিমানা আদায় লাশের পাশে বসা শিশু মরিয়মকে নওগাঁ পুলিশের অনুদান নেত্রকোণায় লকডাউন পরিদর্শন ও মতবিনিময়ে ময়মনসিংহের রেঞ্জ ডিআইজি ময়মনসিংহ জেলা শহরে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতকরণে চলছে অভিযান ময়মনসিংহের গৌরীপুরে ৫৬ জন করোনা আক্রান্ত পূর্বধলায় লকডাউন বাস্তবায়নে মাঠে রয়েছেন প্রশাসনসহ বিভিন্ন বাহিনী ময়মনসিংহে ৩য় দিন লকডাউন বাস্তবায়নে ৫১২টি মামলা এবং ৩,৮১,৫৭৫/- টাকা অর্থদন্ড জীবন বাঁচলে সুস্থ থাকলে চলাচলের সুযোগ পাবেন-পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আহমার উজ্জামান