বুধবার , জানুয়ারি ১৩ ২০২১
Home / Uncategorized / গোড়াতে ভূল

গোড়াতে ভূল

মোঃ আব্দুল লতিফঃ বিশেষ প্রতিনিধি:

সারা বিশ্বের এক আতংকের নাম করোনার ভাইরাস,সেই
সংবাদটি মনে হচ্ছে আমরা প্রকাশ করতে গোড়াতেই কোথাও একটা ভুল করছি।
আমাদের সাইক্লোন, মহামারী, বন্যা, ভূমিকম্প কিম্বা দাবানল মোকাবেলার অভিজ্ঞতা থাকলেও ভাইরাস জনিত এরকম সর্বগ্রাসী সংকট সংক্রান্ত কোন ধারণাই‌ আমাদের ছিল না।
ভাগ্যিস চীন থেকে এর শুরু হয়েছে, ইন্ডিয়া বা বাংলাদেশের মতো কোনো টানাপোড়েনের দেশ এটির উৎপত্তি স্হল‌ হলে আর উপায় ছিল না !! পুরো পৃথিবীর কাছে তাহলে এতোদিনে নাকে খত দিয়ে হাতজোড় করে ক্ষমা চাইতে হতো। এছাড়া সাহায্যের বদলে আসতো নছিহত। তারপর যখন তারা দেখতো যে- এটাতো বিশ্বব্যাপী ছড়াচ্ছে, তখন একটা ছোটখাট পরমাণু ফাটিয়ে এই আপদগুলোকে একেবারে উড়িয়ে দেয়ার চিন্তা হয়ত করত বিশ্বের ক্ষমতাধর প্রধানরা কেউ কেউ, যাই হোক উন্নত ঘরে জন্ম নেয়ায় করোনা দিদির ইজ্জত অনেক উঁচুতে। আমরা তার নামের আগে নোবেল শব্দটি যোগ করে সমীহের সাথে উনার নাম নিচ্ছি। কলেরা বসন্তের মতো নিম্ন শ্রেণীর যে উনি নন সেটা উনাকে ঘিরে আমাদের সকল উঁচু মানের কর্মকান্ডই তা প্রমাণ করছে। উনাকে ঠেকাতে হাজার টাকার ব্যক্তিগত প্রোটেকশন ছাড়াও ট্রিলিয়ন ডলারের সব পরিকল্পনা নেয়া হচ্ছে। কেউ কাউকে দুষছে না, বলা হচ্ছে এটা প্রকৃতির প্রতিশোধ।

আমাদের ভুলটা যেখানে হয়েছে সেটা হচ্ছে:
আমরা শুরু থেকেই ধরে নিয়েছি- এই রোগটা ঠিক আমাদের মতো অনুন্নত দেশের জন্য নাজেল হয়নি। তাই আইসোলেশন কোয়ারেন্টাইন স্যানিটাইজার ইউজ ইত্যাদি নিয়ে ক্যরিকেচার করেছি। আসলে মিডিয়াতেও তখন কেবল প্রথম বিশ্বের দম্ভচূর্ণ করা এই অভিসম্পাতের ছড়িয়ে পড়ার খবর এই বিশ্বাসকে আরও পাকাপোক্ত করছিল।
তবে বিপদ এদিকেও যখন অল্প অল্প উঁকি দিচ্ছে, তখন লকডাউনের সংকটের ভয়ে গৃহমুখী না হয়ে দেদারসে কেনাকাটা শুরু করেছি। ‘ছুটি ঘোষণা’ শব্দটাও সেসময়ে আমাদের বিভ্রান্ত করেছে। বন্ধ নামের ছুটি ঘোষণাটা যারা করেছেন তারাও না বুঝেই হালকা মেজাজে তা করেছেন। আসলে আমরা পাত্তাই দিই নি। অনেকটা পিকনিক মুড নিয়ে আমরা ঘরে বা বাড়ি চলে গেছি। নানা পদের খাবার আর মুভির লিষ্ট নিয়ে আমরা বসে পড়েছি। মাঝে মধ্যে খেলার স্কোর দেখার মতো করে করোনা আপডেট দেখেছি। ধাক্কা ধাক্কি করে চানরাত মুডে বাজার করেছি। চা এর দোকান বন্ধ হলেও হরেক রকম উদ্ভাবনী স্টাইলে তারপরও আড্ডা মেরেছি। রাস্তায় সত্যমিথ্যা বলে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ফাঁকি দিয়েছি। মাস্ক এবং স্যানিটাইজার ব্যবহারের নূন্যতম নিয়মকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নিজের বীরত্ব প্রদর্শন করে করে অবশেষে এখন কিঞ্চিত ক্লান্ত হয়ে পড়েছি আমরা….।
শত্রু তাহলে ঢুকেই পড়েছে। এখন কি হবে !! যদি ইতিমধ্যেই আমি বা আমার পরিবারের কেউ সংক্রমিত হয়ে থাকে !!
যদি কাল বা পরশু হালকা জ্বর আর খুশখুশে কাশি নিয়ে আমাদের কারো ঘুম ভাঙ্গে !!!

আসলে ভুলটা হয়েছে গোড়াতেই…

আমাদের ছোট বেলায় হঠাৎ একদিন ঘুম ভেঙ্গে শুনতাম রেডিওতে কোরআন তেলাওয়াত হচ্ছে, আর থেকে থেকে দেশাত্মবোধক গান আর সেই সাথে গুরুগম্ভীর কন্ঠে বিশেষ ঘোষণা। ৭৫ এর পর থেকে বেশ কয়েকবার এই অভিজ্ঞতা হয়েছে। এই অবস্থা হলেই বুঝতাম দেশে একটা বড়ো কিছু ঘটেছে। তারপর ক’টা দিন শ্বাসরুদ্ধকর সব খবর আসতো। এই আতঙ্কে আমরা দেখতাম সবাই তটস্থ। সব অনিয়ম অকস্মাৎ নিয়মে রূপান্তরিত হতো। নিকট অতীতেও এরকমটা হয়েছে।টাকার মায়া পর্যন্ত মানুষ অবলীলায় ত্যাগ করেছে। বস্তা বস্তা টাকা রাস্তায় গড়াগড়ি খেয়েছে। নিজের বাড়ির বাড়তি অংশ মানুষ নিজে ভেঙ্গে ফেলেছে…ভাবা যায়…!
তো মাত্র পনেরোটা দিন যেখানে দরজা বন্ধ করে থাকলে, একবেলা খেয়ে কোন রকমে দম বন্ধ করে হলেও পার করলে যেখানে আমরা বড়ো একটা বিপদ থেকে রক্ষা পেয়ে যেতাম, সেই বিষয়ে স্রেফ অবজ্ঞা করে, গুরুত্ব না দিয়ে হেলাফেলা করে আমরা বন্ধ ঘোষণা থেকে শুরু করে সকল পদক্ষেপকে ব্যার্থ করে দিয়ে এখন মাথায় হাত দেয়ার পর্যায়ে এসে পৌঁছেছি।
উচিত ছিল সংকটের গোড়াতেই লকডাউন মানে একশো ভাগ লকডাউন করা। টিভিতে গান বাজনা বন্ধ করে প্যানিক তৈরি করা। শুধু মাত্র ঘোষণা, খবর আর করোনা সচেতনতা ভিডিওগুলো প্রচার করা। *আতংকই দরকার ছিল আবেগে ভাসা বাঙালির জন্য।* তাহলে এই পিকনিক মুড টা অন্তত আসত না। এতোগুলো নিম্নআয়ের মানুষকে গাজীপুর পর্যন্ত দৌড়াদৌড়ি করানোর সাহস কেউ করতো না। এয়ারপোর্টে নেমে নিয়মকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন কেউ করতে পারতো না। এছাড়া রাস্তায় বেরুনো যখন যায়ই তখন বীর বাঙ্গালীকে আর আটকায় কে..! আর টেলিভিশনে পণ্যের বিজ্ঞাপনের বাহার তো বলেনা যে স্বাভাবিক কেনাকাটা-জীবনযাত্রা এখন বন্ধ ! সেখানেতো সারাক্ষণই প্ররোচিত করা হচ্ছে ভোগে মেতে উঠতে, বাইরে বেরিয়ে যেতে… এবং বলা হচ্ছে আতঙ্কিত না হতে…..!!

এইসব দ্বিমুখীনতার ভুলতো গোড়াতেই হয়ে গেছে।

দেশে যে একটা দুর্বিপাক এসেছে, আমাদের সবার জীবনই যে সংকটাপন্ন, আমাদের যে কেউ যে মারা যেতে পারি এই ভয়টাই কি আমরা পেয়েছি একবারও…?
দেশে না শুধু গোটা পৃথিবীতেই যে ভয়ঙ্কর একটা কিছু হয়েছে- এ বিষয়টি আরও সিরিয়াসলি জানান দেয়া দরকার ছিল। দরকার ছিল সবগুলো ব্যবস্থা পাকাপোক্ত ভাবে পালনে ঘাড়ে ধরে বাধ্য করা।

About Pratidiner Tottho

Check Also

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ৭৩ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী অনুষ্ঠিত

মোঃ আব্দুল লতিফ: বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ৭৩ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সোমবার (৪ জানুয়ারি) সকাল ১১টায় গৌরীপুর উপজেলা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
সর্বশেষ