নেপাল ধরঃ ময়মনসিংহে গীতা পাঠের মধ্য দিয়ে ১জুলাই রবিবার বিকাল ৫ টায় শ্রী শ্রী বড় কালীবাড়ি মন্দির প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ হিন্দু কল্যাণ ফাউন্ডেশনের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। মত বিনিময় সভা শুরুর প্রথমে গীতা পাঠ শেষে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি মন্ডলির সদস্য ময়মনসিংহ জেলা কমিটির সভাপতি এ্যাড বিকাশ রায়ের রোগমুক্তি কামনা করেন। ময়মনসিংহ জেলা কমিটির আহ্বায়ক শ্রী তপন ভৌমিক, সদস্য সচিব দিলীপ সরকার কে মনোনীত করে ( ৩১) সদস্য কমিটি অনুমোদন করেন কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সাধারণত সম্পাদক বিভাগীয় সমন্বয়কারী শ্রী সুপ্রিয় বণিকের উপস্থিতিতে বক্তব্য রাখেন বাধন সরকার, সাংবাদিক স্বপন কুমার ভদ্র, মানিক পাল, গৌরাঙ্গ মোহন দত্ত, পঙ্কজ সাহা, বিজয় চন্দ্র দাস, সুশান্ত সেনগুপ্ত (রিপন), সুপ্রিয় বনিক, দিলীপ সরকার, তপন কুমার বনিক, অজিত সরকার (বিপ্লব),সমর বিশ্বাস, রাজিব সাহা অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। বিশ্বের সকল দেশে বিভিন্ন জনগোষ্ঠী নিজস্ব স্বকীয়তা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ সহ বসবাসের অধিকার রয়েছে। ইহা প্রত্যেক নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার। এটি সামাজিক অর্থনৈতিক ও অরাজনৈতিক সংগঠন। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার নিরপেক্ষতার ভিত্তিতে মূল চার নীতিতে সবার জন্য বাংলাদেশ। পরবর্তীতে ক্ষমতার পালা বদলের প্রেক্ষিতে সংবিধান পরিবর্তন-পূর্বক বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মৌলিক অধিকার ক্ষুন্ন হয়। সনাতন ধর্মবম্বলী জনগোষ্ঠীকে তার প্রিয় জন্মভূমি বাংলাদেশে সম অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তাদের নিজ ভূমিতে স্হায়ীত্ব লাভ, সামাজিক, নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও ধর্মীয় অধিকার প্রতিষ্ঠা ও সমৃদ্ধি লাভ করানোই এই সংগঠনের মূল উদ্দেশ্য ও প্রত্যাশা। এই প্রত্যাশাকে সামনে রেখে ২০১৪ খ্রিঃ দেশ হিন্দু কল্যাণ ফাউন্ডেশন যাত্রা শুরু হয়। ইহা একটি কল্যানমুখী অরাজনৈতিক, বেসরকারি, অলাভজনক, ও দাতব্য প্রতিষ্টান। ১/বাংলাদেশ সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ঐক্যবদ্ধ করা এবং তাদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করণের উদ্যোগ গ্রহণ করা। ২/সমগ্র বাংলাদেশের মন্দির উন্নয়ন, নতুন মন্দির প্রতিষ্ঠা, বেহাত মন্দির শ্মশান ও আখরা পুনরুদ্ধার এবং ধর্মীয় রীতিতে মৃত্যুদেহ সৎকার করা। ৩/প্রতিটি জেলা, মহানগর, উপজেলা ইউনিয়ন সমবায় সমিতি ঘটন করে সদস্যদের আত্মনিদ্বরশীল করা এবং প্রাথমিক সমিতি থেকে কেন্দ্রীয় সমিতি এবং কেন্দ্রীয় সমিতি থেকে জাতীয় সমিতি ঘটন করে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলা। ৪/প্রতিটি জেলা, মহানগরী হিন্দু কল্যাণ ফাউন্ডেশনের কার্যক্রমে আর্থিক সহযোগিতার জন্য হিন্দু কল্যাণ ভবন, আর্থিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা। ৫/ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর সকল প্রকার অত্যাচার ও নির্যাতন প্রতিরোধ করা এবং অত্যাচার ও নির্যাতন প্রতিরোধে সেল গঠন করা। ৬/সমগ্র বাংলাদেশের হিন্দুদের শিক্ষা কার্যক্রম ও উচ্চশিক্ষার জন্য হিন্দু স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করে ধর্মীয় শিক্ষার বিস্তার ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা। ৭/দেশের সমগ্র এলাকা সনাতন ধর্মালম্বীসহ অন্যান্য সম্প্রদায়ের ধর্মাঅনুভূতিতে আঘাত আনার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো।
৮/সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিভিন্ন জটিল সমস্যার আইনগত সাহায্য প্রধান, দুস্হ, ভূমিহীন পরিবারকে পূর্ণবাসনের ব্যবস্থা করা ও বিবাদে মীমাংসার জন্য স্থায়ী বা অস্থায়ী সালিশী কোর্ট গঠন করা। ৯/সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রতিটি ছেলে-মেয়েকে নিজস্ব জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে উদ্বুদ্ধ করে তার বিকাশ ও বিস্তার লাভ করা। ১০/সনাতন ধর্মাবলম্বী পরিবারের বিবাহযোগ্য কন্যার বিবাহ সমস্যা সমাধানসহ বিধবা আশ্রম, বৃদ্ধাশ্রম ও অনাথ আশ্রম প্রতিষ্ঠা করা।
১১/অসংগঠিত দরিদ্র মহিলা শ্রেণীকে সংগঠিত করা এবং তাদের অংশগ্রহণ ও নেতৃত্বের মাধ্যমে সামাজিক উন্নয়ন ও ন্যয় বিচার প্রতিষ্ঠা করা এবং আনুষ্ঠানিক ও উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে নিরক্ষর মুক্ত সচেতন সমাজ গড়া। ১২/তথ্যপ্রযুক্তি, কম্পিউটার প্রশিক্ষণসহ অন্যান্য সৃষ্টিশীল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করা এবং গরিব-মেধাবী ও প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে বই বিতরণ করা নিয়ে আলোচনা করা হয়।
Pratidinertottho.com Online News Portal